ফিচের পূর্বাভাস

আসিয়ান অঞ্চলে ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে ইসলামিক ফাইন্যান্স

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসে (আসিয়ান) ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইসলামিক ফাইন্যান্স বা ইসলামী অর্থনীতির আকার ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ফিচ রেটিংস।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জোট অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসে (আসিয়ান) ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইসলামিক ফাইন্যান্স বা ইসলামী অর্থনীতির আকার ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়াবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ফিচ রেটিংস। এ প্রবৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রাখবে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনাইয়ের মতো মুসলিমপ্রধান দেশ। পাশাপাশি গলফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও খাতটির সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। খবর আরব নিউজ।

আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থাটির তথ্যানুসারে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আসিয়ানের ইসলামিক ফাইন্যান্সের আকার প্রায় ৯৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা এ খাতে বৈশ্বিক বাজারের এক-চতুর্থাংশ। তবে এ প্রবৃদ্ধি অঞ্চলজুড়ে সব দেশে সমান নয়। সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনস ও থাইল্যান্ডে উপস্থিতি সীমিত হলেও ভিয়েতনাম, লাওস, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারে ইসলামিক ফাইন্যান্সের বাজার এখনো অপর্যাপ্ত।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রাক্কলন অনুসারে, ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ইসলামিক ফাইন্যান্সের আকার ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন বা ৭ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার।

ফিচের পূর্বাভাস অনুসারে, বড় আকারের মুসলিম জনসংখ্যা, সহায়ক নীতি, বিশেষায়িত বন্ড সুকুক বাজারে প্রবেশাধিকার এবং জিসিসির সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন আসিয়ান অঞ্চলে ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে রাখবে।

আসিয়ানের ইসলামিক ফাইন্যান্সের বিকাশে সুকুক বন্ড বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। চলতি বছরে মাঝামাঝিতে আঞ্চলিক সুকুকের বাজার দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, যা আসিয়ানের মোট ঋণ বাজারের ১৬ শতাংশ। এছাড়া বৈশ্বিক সুকুক বাজারের প্রায় অর্ধেক জোগান দিচ্ছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। মালয়েশিয়ার ঋণ বাজারের ৫৯ ও ইন্দোনেশিয়ার ১৮ শতাংশ সুকুকনির্ভর। ডলারভিত্তিক সুকুক তালিকাভুক্তির কেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক খাতে মালয়েশিয়া সবচেয়ে বড় বাজার, যার আকার ৩০ হাজার কোটি ডলার। ইন্দোনেশিয়ার ইসলামিক ব্যাংকিং সম্পদ ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার আর ব্রুনাইয়ের ইসলামিক ব্যাংক দেশের মোট ব্যাংকিং সম্পদের ৬৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। তাকাফুল খাতে মালয়েশিয়ার ফ্যামিলি তাকাফুল বাজারের ৩৯ আর ব্রুনাইয়ের অংশীদারত্ব ৪৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

অবশ্য ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস ও কম্বোডিয়ায় নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রবৃদ্ধি সীমিত। তবে সামগ্রিকভাবে আসিয়ান অঞ্চলের বাজার প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী ফিচ। ঋণমান সংস্থাটি বলছে, জিসিসির সহযোগিতা, সুকুক ইস্যু বৃদ্ধি ও ব্যাংক খাতের সম্প্রসারণের ফলে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোয় ইসলামিক ফাইন্যান্সের উত্থান অব্যাহত থাকবে।

আরও